বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০১:৫৭ PM

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বগণ

কন্টেন্ট: পাতা

কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬)

কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক, যিনি মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণ ও শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষা বিভাগে চাকরি করেন। তাঁর সবচেয়ে আলোচিত ও স্মরণীয় সাহিত্যকর্ম “আবদুল্লাহ”।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪)

প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন, যেখান থেকে তিনি ডিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো মার্কিউরাস নাইট্রাইট ,যা তাঁকে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে খ্যাতি এনে দেয়। এছাড়া তিনি অজৈব রসায়নের উপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা করেন।

কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭)

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ভৈরব নদের তীরে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবি ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকেতিনি ঢাকার প্রথম সাহিত্যপত্র মাসিক কবিতা কুসুমাবলী বা কুসুমাঞ্জলি, মাসিক মনোরঞ্জিকা, সাপ্তাহিক বিজ্ঞাপনী এবং সাপ্তাহিক ঢাকাপ্রকাশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ "সদ্ভাব শতক" (ঢাকা, ১৮৬১), যার অধিকাংশ কবিতা নীতিমূলক, এবং সুফি ও হাফিজের ফার্সি কবিতার অনুসরণে রচিত।

যুঁথিকা রায় (১৯২০-২০১৪)

যুঁথিকা রায় ১৯২০ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম ছিল রেণু। ছোটবেলা থেকেই গানে অনুরক্ত ছিলেন। সঙ্গীতজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি ঘটে নজরুলের হাত ধরে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন এবং ১৯৩০ সালে নজরুলের চেষ্টায় তাঁর প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড হয় 'স্নিগ্ধ শ্যাম বেণী বর্ণা' গানটি। চার দশকের সঙ্গীত জীবনে ভক্তিমূলক ভজনগানে হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি ২০০টির বেশি হিন্দি ও ১০০টির বেশি বাংলা চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতে কণ্ঠ দেন।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৯২-১৯৬১)

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন।বাংলা নাট্যসাহিত্যে তাঁর স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা নাটকের বিষয় ও আঙ্গিকগত যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল, তার অগ্রভাগে ছিলেন শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। তাঁর নাটকের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও হিন্দু-মুসলমানের মিলনের বাণী। তাঁর ঐতিহাসিক নাটক সিরাজুদ্দৌলা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

মনোরঞ্জন ঘোষাল

মনোরঞ্জন ঘোষাল বাংলাদেশের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ২০২৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন। খুলনা অঞ্চলের কৃতি সন্তান হিসেবে তিনি একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার — বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন ব্যক্তিত্ব।

দানবীর মেহের মুসল্লী

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় যে সকল গুণী ও বরেণ্য ব্যক্তিদের জন্ম ও আগমন ঘটেছে, তাদের মধ্যে মেহের মুসল্লী অন্যতম।তাঁর ধার্মিকতা ও সেবাপরায়ণতার কারণেই তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন: খেদমত ও পরহেজগার ব্যক্তি হিসেবে এলাকার মানুষ তাঁকে 'মুসল্লী' উপাধি দেন। সংসার নির্বাহের পর গচ্ছিত সকল অর্থ একদিন তিনি বিজ্ঞানী পি.সি. রায়েরর একটি প্রতিষ্ঠানে দান করেন। তাঁর এই দানে পি.সি. রায় বিস্মিত হয়ে তাঁকে শ্রেষ্ঠ 'দানবীর' খেতাব দেন।

গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮)

গাজী শামছুর রহমান একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশী আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, বাগ্মী, ভাষাবিদ, গ্রন্থকার, বিশিষ্ট কলামিস্ট এবং টেলিভিশন ও বেতার ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯২১ সালে বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার চুকনগর গ্রামে তাঁর জন্ম।

মানকুমারী বসু (১৮৬৩-১৯৪৩)

মানকুমারী বসুর জীবন এক গভীর প্যারাডক্স — মাত্র ১৯ বছর বয়সে বৈধব্যের অন্ধকার তাঁকে গ্রাস করলেও, সেই বেদনাকেই তিনি সাহিত্যসৃষ্টির আলোয় রূপান্তরিত করেছিলেন, এবং খুলনার ভৈরব নদীর তীরেই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় রচিত হয়েছিল।

রায় সাহেব বিনোদবিহারী সাধু

রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃদত্ত ব্যবসায়িক জ্ঞান ও স্যার পি.সি. রায়ের পরামর্শে তিনি ব্যবসা আরম্ভ করেন। তিনি কলকাতায় খাঁটি সরিষার তেলের মিল স্থাপন করেন। সেখান থেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত হন এবং কপিলমুনিতে অবস্থিত নিজ বাড়িতে তিনি জীবন অতিবাহিত করেন।

ব্রজলাল শাস্ত্রী (১৮৭১-১৯৪৪)

বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাটের বাউডাঙ্গার জমিদার ও তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী)। তিনি ছিলেন সংস্কৃত, ইংরেজি সাহিত্য ও আইনে লেখাপড়া জানা মানুষ। তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কীর্তি হলো খুলনা অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন- খুলনা মহানগরী থেকে আট কিলোমিটার দূরে দৌলতপুরের ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত কলেজটি ১৯০২ সালের ২৭ জুলাই কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে 'হিন্দু অ্যাকাডেমি’(বর্তমান নাম ব্রজলাল কলেজ) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।ব্রজলাল শাস্ত্রীর জীবন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত — একজন আইনজীবী ও জমিদার হয়েও তিনি নিজের সম্পদ ও প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে, যার ফল আজও খুলনা অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভোগ করছে।

প্রফুল্ল চন্দ্র সেন (১৮৯৭-১৯৯০)

প্রফুল্লচন্দ্র সেন একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও গান্ধীবাদী নেতা ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটির এক বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে। প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের জীবন এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত — খুলনার সেনহাটি গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি বিদেশে চাকরির স্বপ্ন ছেড়ে একজন অনাড়ম্বর জীবনযাপনকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠেন।

শেখ আকিজ উদ্দিন (১৯২৯-২০০৬)

শেখ আকিজ উদ্দিন খুলনার ফুলতলা উপজেলার মধ্যডাঙ্গা গ্রামের এক নিতান্ত দরিদ্র পরিবারে ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ১৯৪২ সালে নিজ গ্রাম খুলনার ফুলতলার মধ্যডাঙ্গা ছেড়ে জীবিকার অন্বেষণে বেরিয়ে পড়েন শেখ আকিজ উদ্দিন। মাত্র ১৬ টাকা মূলধন নিয়ে কলকাতায় পাইকারি বাজার থেকে কমলালেবু কিনে হাওড়া ব্রিজে ফেরি করতেন তিনি। কমলালেবু বিক্রি করে ১০ পয়সা মুনাফা ছিল তাঁর প্রথম আয়। এরপর আসে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়: ১৯৫২ সালে বিড়ির ব্যবসার মধ্য দিয়ে ব্যবসার গতি-প্রকৃতি একেবারে জাদুর মতো বদলে যেতে থাকে। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তার

পরবর্তী দশকগুলোতে একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন তিনি: যশোরের অভয়নগরে গড়ে তোলেন অত্যাধুনিক চামড়া কারখানা এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ (১৯৬০)। এরপর প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ (১৯৬৬), আকিজ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড (১৯৭৪), আকিজ ট্রান্সপোর্টিং এজেন্সি লিমিটেড (১৯৮০) ও জেস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (১৯৮৬)। নব্বইয়ের দশকে আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি (১৯৯২), আকিজ জুট মিল (১৯৯৪), আকিজ পার্টিকেল বোর্ড মিলস (১৯৯৬), আকিজ হাউজিং (১৯৯৭) এবং পরবর্তীতে আকিজ সিমেন্ট, আকিজ টেক্সটাইল মিলস (২০০২), আকিজ এগ্রো (২০০৪) ও আকিজ পেপার মিলস (২০০৫) প্রতিষ্ঠা করেন।

কমরেড কামাখ্যা প্রসাদ রায় চৌধুরী

১৯২০ সালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রদিয়া গ্রামে জন্ম নেয়া এই বিপ্লবী বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম, খাসজমি দখল, কৃষিজমির লবণাক্ততা দূর করা, তেভাগা কৃষক আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। আমৃত্যু তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন

ডঃ আইনুন নিশাত

পিতা গাজী শামছুর রহমান বাংলায় আইনশাস্ত্রকে সহজলভ্য করার পথিকৃৎ ছিলেন, আর পুত্র আইনুন নিশাত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের পানি ও জলবায়ু নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর।তাঁর বিশেষজ্ঞ মতামত দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজে লাগানো হয়েছে: তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু যমুনা সেতু নির্মাণকালে এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ছিলেন। নিশাত বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ও ফিলিপাইনে বিশ্ব ব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন