বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০২:২৫ PM

চুকনগর বধ্যভূমি

কন্টেন্ট: পাতা

১৯৭১ সালের গণহত্যা – ইতিহাসের ভয়াবহতম অধ্যায়

পটভূমি বেশ মর্মান্তিক: ১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ শরণার্থী হয়ে দলে দলে চুকনগরে জড়ো হচ্ছিলেন, কারণ এলাকাটি তুলনামূলক নিরাপদ ছিল এবং এখান থেকে ভারতে যাওয়া সহজ ছিল। বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা, রামপাল, খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা থেকেও মানুষ নৌকায় বা পায়ে হেঁটে এসে চুকনগরে জড়ো হয়েছিলেন। ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ: ২০ মে ১৯৭১ সালের মধ্যে সেখানে কয়েক হাজার শরণার্থী অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেদিন সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, মাত্র কযেক ঘণ্টায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি প্লাটুন গুলি করে ১০-১২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করে; যারা ভারতের পথে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চুকনগরে এসেছিলেন। ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মূল্যায়ন: এই গণহত্যাটি বিশ্বের কোনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ একক গণহত্যা বলে বিবেচিত হয় এবং পাকিস্তানি হানাদারদের করা গণহত্যার একক বৃহত্তম ঘটনা।

চুকনগর বধ্যভূমি

চুকনগর বধ্যভূমি

চুকনগর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্তর্গত, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নে চুকনগর বাজার অবস্থিত। চুকনগর খুলনা শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পশ্চিমে ভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এবং ভারতীয় সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চল। চুকনগর ছিল যশোর, খুলনা এবং সাতক্ষীরার সংযোগস্থল, যা এই স্থানটিকে সবার কাছে সহজে পরিচিত করে তোলে। ২০০৫ সালে সরকার ৭৮ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে এবং ২০০৬ সালে নির্মাণ করে 'চুকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ'। এছাড়া ১৯৯১ সালে 'চুকনগর গণহত্যা স্মৃতি রক্ষা পরিষদ' গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে সেখানে একটি ফলক ও স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপন করা হয়।

কীভাবে যাবেন?

খুলনা শহর থেকে বাস বা মাহেন্দ্রায় চুকনগর বদ্ধভূমি যাওয়া যায়।
খুলনা শহরের বাস টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরাগামী রুটের বাসে উঠুন (চুকনগর এই রুটেই পড়ে)
বাস বা মাহেন্দ্রায় প্রায় ৩২ কিলোমিটার গিয়ে চুকনগর বাজারে নামুন বাজার থেকে কাছেই ভদ্রা নদীর তীরে স্মৃতিসৌধটি অবস্থিত – স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞেস করলে সহজেই খুঁজে পাবেন।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন