কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০২:২৪ PM
কন্টেন্ট: পাতা
দুবলার চর, সুন্দরবন এর পরিচিতি
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে, সুন্দরবনের গভীরে হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে এবং কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর দ্বীপ হলো দুবলার চর। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদীর মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা এই চরটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক রাসমেলা, পুণ্যস্নান এবং বনের হরিণদের কারণে বিশেষভাবে পরিচিত। চরের আয়তন প্রায় ৮১ বর্গ মাইল, এবং চরের মধ্য দিয় বয়ে চলা নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। | ![]() |
জেলে পল্লী ও শুঁটকি উৎপাদন
| দুবলার চরের সকল পরিবারই মৎস্যজীবী, তাই একে জেলে পল্লী বলা চলে। মাছ ধরার পাশাপাশি এখানে চলে শুঁটকি তৈরির কাজ। বর্ষাকালে ইলিশ শিকারের জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বাগেরহাট, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা এবং খুলনা থেকে দলবেঁধে জেলেরা দুবলার চরে এসে সাময়িক বসতি গড়ে তোলে। এখান থেকে শুঁটকি নিয়ে চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়। বছরের প্রায় পাঁচ মাস (অক্টোবর-ফেব্রুযারি) প্রায় ১০ হাজার জেলে এখানে অস্থাইয়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বন দপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হয়। | ![]() |
রাসমেলা – দুবলার চরের প্রাণ
| ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: যদিও বলা হয়ে থাকে, ২০০ বছর ধরে এই রাসমেলা হয়ে চলেছে, তবে জানা যায়, ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে হরিচাঁদ ঠাকুরের এক বনবাসী ভক্ত হরিভজন (১৮২৯-১৯২৩) এই মেলা চালু করেন। প্রতি বছর কার্তিক মাসে (নভেম্বর) তিনদিনব্যাপী এই রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা ছুটে আসেন। ভক্তরা সূর্যোদয় দেখে সমুদ্রের জলে ফল ভাসিয়ে দেন এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ভজন-কীর্তন গেয়ে চারপাশ মুখরিত করেন। প্রায় ৪০টি ট্যুরিস্ট কোম্পানি খুলনার বিআইডব্লিউটিএ-র লঞ্চঘাট থেকে সুন্দরবনের রাসমেলায় যায়। এসি/নন-এসি কেবিন ব্যবস্থা এবং একই মানের খাবার থাকে, এবং দুবলার চরের রাসমেলা দেখার পাশাপাশি হিরণ পয়েন্ট, আলোরকোল, কটকা, জামতলা, টাইগার পয়েন্ট ও কচিখালী ভ্রমণের সুযোগও থাকে, সাথে বনের ভেতর ট্র্যাকিং, বিচ ভলিবল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। | ![]() |
কীভাবে যাবেন?
| ঢাকা থেকে মোংলা: সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি মোংলা যাওয়ার বাসে জনপ্রতি ৭০০ টাকা ভাড়ায যাওয়া যায়। মোংলা/খুলনা থেকে দুবলার চর: মোংলা থেকে দুবলার চর যাবার নৌযান ভাড়া করা যায়, এবং নৌকাতেই থাকা-খাওয়ার প্যাকেজসহ ভাড়া করতে হয়। খুলনা লঞ্চঘাট থেকেও লঞ্চযোগে দুবলার চর যাওয়া যায় রাতে ও সকালে লঞ্চ চলাচল করে। রাসমেলার সময় নির্ধারিত নিরাপদ রুট: তীর্থযাত্রার সময় সুন্দরবন বন বিভাগ পাঁচটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করে – বুড়িগোয়ালিনী-কোবাদক হয়ে, কযরা-কাশিয়াবাদ হয়ে, নলিয়ান স্টেশন হয়ে, ঢাংমারী/চাঁদপাই স্টেশন হয়ে, এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন হয়ে – এসব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। |