কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০১:৫১ PM
কন্টেন্ট: পাতা
হিরন পয়েন্ট, সুন্দরবন এর পরিচিতি
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের দক্ষিণাংশে খুলনা রেঞ্জে প্রমত্তা কুঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের নাম হিরণ পয়েন্ট, যার অপর নাম নীলকমল। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি অংশ। নীলকমল নদী পেরিয়ে যেতে হয় এই হিরণ পয়েন্টে, এবং সুন্দরবনের মূল অংশ থেকে হিরণ পয়েন্টকে এই নদীই বিচ্ছিন্ন করেছে। | ![]() |
কী দেখবেন?
![]() | ![]() |
| বন্যপ্রাণী দর্শনের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত: অভয়ারণ্য হওয়ার কারণে এখানে বানর, হরিণ, বাঘসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী, সরীসৃপ ও পাখির নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। ফলে সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, লার্জ এগ্রেট, কাঁদাখোঁচা, ধ্যানী বক প্রভৃতি পশুপাখির দর্শন মেলে। হাঁটার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যায়: হিরণ পয়েন্টে কাঠের তৈরি সুন্দর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হরহামেশাই হরিণ, বানর, গুইসাপ, কুমির প্রভৃতি প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। এছাড়া হিরণ পয়েন্ট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে কেওড়াসুঠি নামক স্থানে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে হিরণ পয়েন্ট সহ সুন্দরবনের একাংশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। |
কীভাবে যাবেন?
| ঢাকা থেকে খুলনা/বাগেরহাট: সায়েদাবাদ থেকে মেঘনা পরিবহন ও পর্যটক ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাগেরহাটগামী বিভিন্ন বাস চলাচল করে পরিবহনের বাস, এবং গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহন ও সোহাগ পরিবহনের বাস ছাড়ে। চাইলে কমলাপুর থেকে ট্রেনেও খুলনা আসা যায়। খুলনা/মোংলা থেকে হিরণ পয়েন্ট: খুলনা থেকে রূপসা কিংবা বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে সুন্দরবন হিরণ পয়েন্ট যাওয়ার লঞ্চ পাওয়া যায়। এছাড়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকেও সুন্দরবনে যাওয়ার বিভিন্ন নৌযান ভাড়া পাওয়া যায়। খুলনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে হিরণ পয়েন্ট যাওয়া যায়- রাতে ও সকালে লঞ্চ চলাচল করে। | ![]() |
থাকার ব্যবস্থা
| নীলকমলে (হিরণ পয়েন্ট) বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকতে চাইলে দেশি পর্যটকদের প্রতি কক্ষের জন্য ৩০০০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ৫০০০ টাকা ভাড়া লাগে। এছাড়া পর্যটন জাহাজেও রাত কাটানো যায় তিনদিনের ভ্রমণে গেলে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা জাহাজেই পাওয়া যায়। |
বিশেষ উপলক্ষ রাস পূর্ণিমা
| সুন্দরবনে রাস পূর্ণিমার সময় তীর্থযাত্রীদের ৩ দিনের জন্য জনপ্রতি ফি দিতে হয় ৫০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ফি ২০০ টাকা, অনিবন্ধনকৃত ট্রলারের ফি ৮০০ টাকা এবং প্রতিদিন অবস্থানের জন্য ট্রলারের ফি ২০০ টাকা। এই উৎসবের সময় গেলে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বিশেষ আয়োজনও দেখার সুযোগ মিলবে। |
জরুরি পরামর্শ
| একলা কিংবা অল্প ২-৩ জন মিলে সুন্দরবন ঘোরার পরিকল্পনা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ ফরেস্ট অফিসের পারমিশন, নিরাপত্তারক্ষী, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে শিপ বা লঞ্চে গিয়ে ঘুরে দেখা নিরাপদ ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত। প্যাকেজের ভেতরেই খাবার, ট্যুর প্ল্যান, অনুমতি ও গাইড সবকিছুর ব্যবস্থা থাকে। |