কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৫৩ AM
কন্টেন্ট: পাতা


গল্লামারী বধ্যভূমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রেডিও স্টেশন ভবনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষদের ধরে এনে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে গল্লামারী নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। শহরের দু'কিলোমিটার অভ্যন্তরে গল্লামারী খালের পাশেই এই বধ্যভূমির অবস্থান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে ময়ূর নদীর তীরে অবস্থিত এই গল্লামারী বধ্যভূমি।
নৃশংসতার বিবরণঃ
এই স্থানের ইতিহাস অত্যন্ত হৃদয়বিদারক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থানেই ছিল রেডিও পাকিস্তানের খুলনা শাখা, এই বধ্যভূমিকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়টি গণহত্যা ও নির্যাতন কেন্দ্র বেতার ভবন হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। মূলত রাজাকার ও শান্তি কমিটির সহযোগিতায় এসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হত। প্রথমদিকে শুধু রাতে নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হলেও শেষের দিকে দিনে-রাতে সমানে নির্বিচারে হত্যা চলতে থাকে। সারাদিন শহর ও গ্রাম থেকে লোকদের ধরে এনে জেলখানা, হ্যালিপোর্ট ও ইউএফডি ক্লাবে জড়ো করা হত, রাতে হাত বেঁধে বেতার কেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হত। স্বাধীনতার পর এই স্থানের ভয়াবহতা প্রকাশ পায়: খুলনা শহর মুক্ত হবার পর গল্লামারী খাল ও এর আশেপাশের স্থান থেকে প্রায় পাঁচ ট্রাক ভর্তি মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, ঐ স্থানে আনুমানিক ১৫,০০০ মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। খুলনার গল্লামারী রেডিও স্টেশনেই পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

স্বাধীনতার পর রেডিও সেন্টারটি (বর্তমান বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্র) নগরীর নূরনগর এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে এখানে শহীদদের স্মরণে একটি শহীদস্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে "গল্লামারি বধ্যভূমি শহীদস্মৃতি সৌধ" নামে পরিচিত।
কীভাবে যাবেন?
খুলনা শহরের ভেতরেই এই স্থান, ফলে যাতায়াত খুব সহজ:
খুলনা সদর থেকে: শহরের মূল কেন্দ্র (যেমন শিববাড়ি মোড়/ডাকবাংলো) থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে সরাসরি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়
যান- দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে।
অবস্থান চেনার উপায়: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক/ক্যাম্পাসের পাশেই, ময়ূর নদী ও গল্লামারী খালের তীরে এই স্মৃতিসৌধ অবস্থিত-বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে।
বাহন: রিকশা, ইজিবাইক বা সিএনজি যেকোনোটিতেই সহজে পৌঁছানো যায়, ভাড়া সাধারণত ৩০-৫০ টাকার মধ্যে।